দলে শুভেন্দুর প্রভাব ঠেকানোই এখন তৃণমূলের বড়ো চ্যালেঞ্জ
দি নিউজ লায়ন ; মন্ত্রীত্ব থেকে শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তাফা দেওয়ার পর এবারে তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের তরফে জানা গিয়েছে, নিজের বাড়িতে কালিঘাটে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মমতা। সেখানে একদিকে যেমন, শুভেন্দুর দলে ফেরা নিয়ে আলোচনা হতে পারে তেমনি আলোচনায় উঠে আসতে পারে শুভেন্দুর ইস্তফাতে মন্ত্রীত্ব বন্টন প্রসঙ্গও।
একইসঙ্গে দলে শুভেন্দুর যে প্রভাব ছিলো সেই প্রভাব আটকাতেও জরুরি ভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। দলীয় সুত্রে যতোদূর জানা যায়, শেষ মুহূর্তে শুভেন্দুকে ইস্তফাপত্র প্রত্যহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্ত শুভেন্দু তাঁর অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিনের বৈঠকে শুভেন্দুর অনুপস্থিতিতে কি কৌশলে দল এগিয়ে যাবে সেই রণনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। মনে করা হচ্ছে, শুভেন্দুর হাতে থাকা দফতরগুলির মধ্যে পরিবহন দফতর পেতে পারেন ফিরহাদ হাকিম। সেচ দফতর পেতে পারেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্য বিষয় হয়ে উঠবে শুভেন্দুর অবর্তমানে দলকে কীভাবে ভাঙ্গন রোধ করে শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।
তৃণমূলের আশংকা, শুধু শুভেন্দুই নয়, শুভেন্দুর হাত ধরে গোটা অধিকারী পরিবার এবার দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে পারেন। আর সেই দূরত্ব তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরের দখল নিজেদের হাতে রাখতে কি কৌশল নেওয়া দরকার তা নিয়ে এখন থেকেই রোডম্যাপ তৈরি করে নিতে পারে তৃণমূল নেতৃত্ব। একইসঙ্গে শুভেন্দুর প্রভাব থাকা জেলাগুলিতে সংগঠনের রাশ যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেদের হাতে তুলে নিতে ততপর হয়ে উঠেছে তৃনোমুল নেতৃত্ব।
যে কারনে, আগামীকাল শনিবারেই তৃণমূল ভবনে মালদা তৃণমূলের কোর কমিটিকে ডেকে পাঠিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারন এই পূর্ব মেদিনীপুরের পরেই এই মালদা জেলায় শুভেন্দুর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। মালদা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির অধিকাংশ নেতাই শুভেন্দুর অনুগামী বলে পরিচিত।
এমনকী মালদার মাটিতে কংগ্রেস থেকে
মৌসম বেনজির নুরকে তৃণমূলে যোগদান করানোর ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা ছিলো শুভেন্দুর। ফলে
শুভেন্দু দল ছাড়লে যাতে তার প্রভাব দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে না পড়ে তা ঠেকাতে এখন
মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব।

Post a Comment